দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাতে কিয়েভ অঞ্চলের বিলোহোরোদস্কা কমিউনিটিতে রুশ বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। একই রাতে মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এই হামলাগুলো ঘটে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে ভয়াবহ ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই। ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও একাধিক ব্যক্তি আহত হন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি জানান, ট্রেনটিতে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। একই দিনে দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামোতে রুশ ড্রোন হামলায় তিনজন আহত হন বলে জানান গভর্নর ওলেহ কিপার।
কিয়েভ শহরে ১৭ তলা একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হলে ভবনের ছাদে সামান্য ক্ষতি হয় এবং ওপরের তলার জানালাগুলো ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ। এর আগের হামলাগুলোর ফলে কিয়েভের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন এখনো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাতে রাশিয়া একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৪৬টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এর মধ্যে ১০৩টি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।
কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অড্রি ম্যাকালপাইন জানান, যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, আকাশপথ বন্ধ থাকায় দেশটির মানুষ যাতায়াতের জন্য মূলত ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। ট্রেন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই হুমকি ছিল, এই হামলা সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, খারকিভে ট্রেনে হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘যে কোনো দেশেই বেসামরিক ট্রেনে ড্রোন হামলাকে সন্ত্রাসবাদ ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়া হত্যাযজ্ঞ ও সন্ত্রাস চালানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
কঠোর শীতের মধ্যে এসব হামলায় বহু ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়া যেন আবার হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় ইউক্রেন।
রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে এক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানিয়েছে যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে হলে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতেই হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/