দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে দাবি করেছেন এবং ন্যাটোকে এর জন্য দায়ী করেছেন।
শুক্রবার (৯ মে) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামরিক সদস্য ও কয়েকজন বিদেশি নেতার উপস্থিতিতে পুতিন বলেন, ইউক্রেন একটি ‘আগ্রাসী শক্তি’, যাকে ন্যাটোর পুরো জোট অস্ত্র ও সহায়তা দিচ্ছে।
ভাষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে পুতিন বলেন, ‘বিজয়ী প্রজন্মের বীরত্ব আজকের বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এমন একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট সমর্থন ও অস্ত্র দিচ্ছে। তারপরও আমাদের বীররা এগিয়ে যাচ্ছে।’
এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ছিল আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই সীমিত। কয়েক বছর পর প্রথমবারের মতো মস্কোর রেড স্কয়ারের প্যারেডে কোনো সাঁজোয়া যান বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণেই এবারের আয়োজন সীমিত রাখা হয়েছে। রুশ আইনপ্রণেতা ইয়েভজেনি পোপভ বলেন, ‘আমাদের ট্যাংক এখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত। রেড স্কয়ারের চেয়ে সেগুলোর প্রয়োজন যুদ্ধক্ষেত্রেই বেশি।’
কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
গত বছরের ৮০তম বার্ষিকীর তুলনায় এবারের আয়োজনে বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত বছর অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ ২৭ জন বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও অনুষ্ঠান শেষে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ।
রাশিয়ায় বিজয় দিবসকে একদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মত্যাগ স্মরণের দিন হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে পুতিনের শাসনামলে এটি রাশিয়ার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রচারণামূলক আয়োজনেও পরিণত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/