দীর্ঘ ছুটিতেও ফাঁকা কুয়াকাটা, হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা
ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার সৈকত। তবে এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘ ছুটি থাকলেও পর্যটকের উপস্থিতি অনেকটাই কম। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও মিলছে না প্রত্যাশিত বুকিং। এতে উদ্বেগ বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৬টি পেশার ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোর ঈদ মৌসুমের তুলনায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত অনেকটাই ফাঁকা। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুরবন, ঝাউবন, ছাতা-বেঞ্চ (কিটকট), চর বিজয় এলাকা কিংবা গঙ্গামতির চরে নেই সেই চিরচেনা উপচে পড়া ভিড়। যে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী সৈকতে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা স্থানীয় ডে-টুরিস্ট। তারা সকাল বা দুপুরে এসে বিকেলের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতযাপনের জন্য পর্যটকদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে।
এদিকে পর্যটননির্ভর খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেট, শুঁটকি পল্লী ও রাখাইন মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্রেতা সংকটে অলস সময় পার করছেন। পর্যটকের এমন খরা পুরো পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং ঈদের ছুটিকে ঘিরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবেই মানুষ এবার ভ্রমণ বাজেট কাটছাঁট করেছে। ফলে দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হয়নি। তাদের দাবি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বাড়তি পারিবারিক খরচের চাপে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ব্যয় সংকোচনের এই প্রবণতা পর্যটন খাতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।
হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার ইব্রাহীম ওয়াহীদ বলেন, ‘অতীতে ঈদের ছুটিতে যেখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না, সেখানে এবার তেমন চাপ নেই। মাত্র ৩০ % বুকিং হয়েছে হোটেল-মোটেলগুলো। তবে আগামীকাল থেকে পর্যটক কিছুটা বাড়তে পারে।’
হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফিনান্স সেক্রেটারি রাছেল খাব বলেন, ‘বিগত ২ মাসের মন্দা কাটিয়ে এই দীর্ঘ ছুটিতে ভালো ব্যবসার আশা করেছিলাম। কিন্তু এবারের পর্যটক উপস্থিতি হতাশাজনক। এভাবে চললে হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আমাদের দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজ বিপুলসংখ্যক পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আশার সিকিভাগও পূরণ হয়নি। তবে আমরা এখনও আশাবাদী, সপ্তাহের শেষ দিকে পর্যটক বাড়তে পারে। যদি তা না হয়, তবে পেছনের লোকসান কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’
পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা এবং কোরবানি বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সৈকতের এই ফাঁকা চিত্র পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের মুখে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটিয়ে তুলেছে। /অ
৪ ঘণ্টা আগে