ঘেরে মিলল ১৪ দেশীয় অস্ত্র, কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য আটক
বরিশাল সদর উপজেলার চর্বারিয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া এলাকায় একটি ঘেরে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ঘের থেকে ১৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় ঘেরের মালিক ও মূলহোতা সৈকত পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে সাপানিয়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটক দুজন হলেন— নগরের কাউনিয়া থানার পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মো. মেহেদী হাসান এবং ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার ছেলে মো. আব্দুর রহমান। পুলিশ জানায়, আটক দুজনের কাছ থেকে দুটি ধারালো ছোরা, একটি হাসুয়া, দুটি ডেগার, পাঁচটি রামদা ও দুটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা ১৪টি। একই জায়গায় এত বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্র পাওয়ায় ওই ঘের ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক দুই তরুণ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। একটি ঘেরে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র একসঙ্গে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রামদা, ডেগার ও চাইনিজ কুড়ালের মতো অস্ত্র কেন মজুত করা হয়েছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। এসব অস্ত্র কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ নাথ বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর সাপানিয়া এলাকার সৈকতের ঘেরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় অস্ত্রসহ মেহেদী হাসান ও আব্দুর রহমানকে আটক করা সম্ভব হলেও সৈকত পালিয়ে যান। সৈকতকে এ ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো সেখানে কেন রাখা হয়েছিল এবং এগুলো কোনো অপরাধে ব্যবহারের প্রস্তুতি হিসেবে মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সনজিৎ নাথ আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া সৈকতকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস ও মজুতের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।/অ
১ ঘণ্টা আগে