দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর্জেন্টিনায় গত এক বছরে হান্টাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩২ জন। ২০১৮ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০১টি নিশ্চিত হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। গত মৌসুমের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল ৫৭ জন। পাশাপাশি মৃত্যুহারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এদিকে ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে গত ১ এপ্রিল ছেড়ে যাওয়া জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের পথে রয়েছে।
জাহাজটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক ডাচ দম্পতির ভ্রমণপথ অনুসন্ধান করছে আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে ভাইরাসবাহী ইঁদুর নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র বা মলের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়।
আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্য পরিবেশে মানুষের অনুপ্রবেশ, বন উজাড়, গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট বসতি গড়ে ওঠা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঐতিহাসিকভাবে ঝুঁকিমুক্ত এলাকাতেও সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এদুয়ার্দো লোপেজ বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন আসছে, যা ভাইরাস বহনকারী দীর্ঘলেজ ইঁদুরের বিস্তারে সহায়তা করছে। ফলে সংক্রমণও বাড়ছে।
এ ছাড়া খরা, অতিবৃষ্টি ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বুয়েনস এইরেস প্রদেশে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রমোদতরীতে শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটি ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’, যা বিরল হলেও মানুষ থেকে মানুষে সীমিত সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে এটি কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত ছড়ায় না।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সংক্রামক রোগবিষয়ক সহকারী অধ্যাপক ড. শার্লট হ্যামার বলেন, ‘কোভিডের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছে, তবে হান্টাভাইরাস সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এটি সংক্রমিত ব্যক্তির খুব ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘ সংস্পর্শ ছাড়া ছড়ায় না।’
তিনি আরও বলেন, প্রমোদতরীর মতো সীমিত জায়গায় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান করায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে সাধারণ পরিবেশে আক্রান্ত ব্যক্তির পাশ দিয়ে হাঁটলেই এ ভাইরাস ছড়ায় না।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/