দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এ ঘোষণা আসে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতিতে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশ এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে।’
এর কিছুক্ষণ পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, মস্কো এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।
এর আগে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও রাতভর ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে রুশ রাজধানী।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ তিনি ব্যক্তিগতভাবে করেছিলেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানান।
রাশিয়া আগে থেকেই ৮ ও ৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে ইউক্রেন ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল।
বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে হামলা না চালাতে ইউক্রেনকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। মস্কোতে হামলা হলে কিয়েভে ‘বৃহৎ পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ হুমকিও দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এবার মস্কোর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির শুরুতেই ইউক্রেনের অবস্থানগুলোতে ১৪০টির বেশি হামলা এবং ৮৫০টির বেশি ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনও ‘সমান জবাব’ দেবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুরস্ক ও বেলগোরোদ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে রুশ বাহিনীও ‘সমপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া’ দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেনও এমন উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া সংলাপের জন্য প্রস্তুত থাকলেও নিজেরা থেকে উদ্যোগ নেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনও মধ্যস্থতায় আগ্রহী, তবে অগ্রগতি না হলে সময় নষ্ট করতে চায় না।
অন্যদিকে ইউক্রেনের চেরনোবিল বর্জ্য এলাকায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জরুরি সেবা কর্মীরা। প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং ভূমিমাইনের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/