দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান রিয়াদ। পরে গত ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পরিবার আগে জানতো না। রিয়াদ চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তার বাবা মো. আব্দুর রশিদ একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।
পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর দেন। লিমন নিজেও রাশিয়ায় একই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন এবং ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিমনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২ মে রুশ সীমান্তে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নিহত হন। এতে আরও তিনজন আহত হন। নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর শুক্রবার রাতে বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয়। তবে এখনো রিয়াদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘রিয়াদ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় নাকি সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশেরও সন্ধান পাচ্ছি না। বাবা হিসেবে এই কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?’
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি নিহতের পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির জানান, পুলিশ রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে। তিনি জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/