দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, দেশটির স্বাধীনতার জন্য লড়াই চলবেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যায়সঙ্গত শান্তি দরকার। এমন শান্তি, যেখানে ভবিষ্যৎ শুধু আমরাই নির্ধারণ করব। যুদ্ধ চলতে থাকলে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ইউক্রেন এখনও জয়ী হয়নি, তবে কোনোভাবেই হারেনি।’
এর আগে রাশিয়া অভিযোগ করে জানায়, ইউক্রেন ড্রোন হামলায় তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্কের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়, যদিও পরে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, প্রতিটি পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত করতে হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, কিয়েভে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ‘কানাডা সবসময় ইউক্রেনের পাশে থাকবে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূত কিথ কেলগও। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাকে ‘অর্ডার অব মেরিট’ পদক প্রদান করা হয়।
এসময় জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে কেলগ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটি সফল করব।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠান ব্রিটেনের রাজা চার্লসও। তিনি ইউক্রেনীয়দের অবিচল মনোবলের প্রশংসা করেন এবং টেকসই শান্তির আশা ব্যক্ত করেন। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, অন্তত ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নরওয়ে ঘোষণা করেছে, তারা জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে ইউক্রেনকে প্রায় ৬৯৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেবে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও সুইডেন যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের সেনারা দনেৎস্ক অঞ্চলের দুটি গ্রাম দখল করেছে। বর্তমানে রাশিয়ার দখলে ইউক্রেনের প্রায় ২০% ভূখণ্ড রয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করে। যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
জেলেনস্কি বারবার নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন, পুতিন আলোচনায় রাজি আছেন। তবে এখনো কোনো কার্যকর আলোচ্যসূচি প্রস্তুত হয়নি।
সূত্র: বিবিসি
/অ