দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার অনুরোধ জানাবেন—যে ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ভেতরে গভীর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
এর আগের দিনই ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফোনালাপ শেষে জানান, তাদের মধ্যে ‘চমৎকার অগ্রগতি’ হয়েছে এবং শিগগিরই তারা হাঙ্গেরিতে মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হবেন। এটি হবে গত আগস্টের পর দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।
জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বলেন, ‘রাশিয়া শুনতে পেয়েছে টমাহকের কথা, আর তাই তারা এখন দ্রুত আলোচনায় ফিরতে চায়।’ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে।
ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা যখন জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি ইউক্রেনকে টমাহক দিতে যাচ্ছেন, তিনি বলেন, ‘দেখা যাক... হয়তো দেব।’ কিন্তু পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি সুর নরম করে জানান, ‘আমাদেরও এসব ক্ষেপণাস্ত্র দরকার, তাই জানি না এটা সম্ভব হবে কি না।’
ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনায় যুদ্ধোত্তর বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা একটি অজানা স্থানে বৈঠকে মিলিত হবেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি শুক্রবার জেলেনস্কিকে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের বিস্তারিত জানাবেন। সেই বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনায় শান্তির পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে পুতিনের সঙ্গে হাঙ্গেরিতে সরাসরি সাক্ষাৎ হবে।
এদিকে, রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে সেটি ‘গুরুতর উসকানি’ হিসেবে দেখা হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।’
ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফিরে কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে পরে স্বীকার করেছেন, এটি তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওভাল অফিসে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বৈঠকে জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র বাকবিনিময়ে জড়ান। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সম্পর্ক অনেকটাই উন্নত হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইউক্রেন ‘তার পুরো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে পারবে’, যা আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তখন তিনি বলেছিলেন, কিয়েভকে কিছু দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে।
এর আগে জুলাইয়ে ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধবিরতির জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন, নচেৎ কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকে রাজি হওয়ার পর ট্রাম্প সেই হুমকি কার্যকর করেননি।
একই দিনে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এমন কোনো আলাপের বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারত, চীন ও ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা রুশ জ্বালানি কেনা বন্ধ করে ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়। জেলেনস্কিও সেই আহ্বান বারবার জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/