দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রুশ তেল আমদানি বন্ধে ভারতের সম্মতির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এমন কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। তিনি এটিকে ‘বড় পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এমন কোনো কথোপকথনের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং রুশ তেল কেনা বন্ধের কোনো আশ্বাস মোদি দিয়েছেন, এমন তথ্যও তার জানা নেই।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশ। সেখানে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি বা ট্রাম্পের মন্তব্যেরও কোনো উল্লেখ ছিল না। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা আমাদের জ্বালানি নীতির দুইটি প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে আমরা জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় রাখি এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই।’
ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চলতি বছরই নয়াদিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের কথা রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা হিসেবে উঠে আসে।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকে নয়াদিল্লিকে রুশ তেল কেনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে, তবে ভারত বারবার জানিয়ে দিয়েছে—নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটানোই তাদের অগ্রাধিকার, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়।
গত আগস্টে ট্রাম্প রুশ তেল ও গ্যাস আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর আগে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল।
বাজার বিশ্লেষক মিউ ইউ বলেন, রাশিয়া এখন ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে। তিনি বলেন, ‘ভারতের পক্ষে রাতারাতি রুশ তেল কেনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই পরিমাণ তেল অন্য উৎস থেকে পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।’
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কোম্পানিগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমালেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা বাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছিল, যা সেপ্টেম্বর মাসে কমে দাঁড়ায় ৪৬ লাখ ব্যারেলে। অক্টোবরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি আবার ৭০ লাখ ব্যারেল কিনেছে।
সিএনএন জানিয়েছে, তারা ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভবিষ্যতে রুশ তেল কেনা অব্যাহত থাকবে কি না জানতে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে না নতি স্বীকার করার মাধ্যমে মোদি নিজের ‘দৃঢ় নেতৃত্বের’ ভাবমূর্তিকে আরও জোরদার করছেন।
সম্প্রতি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি দলগুলো একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এই মাসের শুরুতে স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কিছু বাণিজ্যিক সমস্যা রয়েছে, যা এখনও মীমাংসিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য, যাতে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো যায়।’ সূত্র: সিএনএন।
এমএস/