দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কূটনীতিতে সময়ের হিসাব সবকিছু। আর ক্রেমলিন এবার সেই সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে রাশিয়ার সর্বশেষ দীর্ঘ ফোনালাপটি ছিল গত আট মাসে অষ্টম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন, ঠিক তখনই রাশিয়া ফোনালাপটি শুরু করে। রুশ কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা ‘আস্থার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে’।
প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি ফোনালাপ—যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র দেওয়ার আলোচনা বন্ধ করা। পুতিন ফোনে বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র—যার পাল্লায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো শহরও আসবে—যুদ্ধক্ষেত্রে তেমন প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষতি করবে, যা ট্রাম্পের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ক্রেমলিন সহকারী জানান, পুতিন ট্রাম্পকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূত হিসেবেও প্রশংসা করেন। আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাবও আসে। পাশাপাশি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে দ্বিতীয় সরাসরি ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয় দুই পক্ষ। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে কয়েক মাস আগের আলাস্কা বৈঠকের ব্যর্থতার স্মৃতি এখনো টাটকা, যেখানে ট্রাম্প পুতিনকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইউক্রেন শান্তি উদ্যোগে কোনো সাফল্য পাননি।
এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির মধ্যস্থতা করে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প মনে করছেন, তার মধ্যপ্রাচ্যের সাফল্য ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতেও সহায়তা করবে। তবে কীভাবে, তা স্পষ্ট নয়।
রাশিয়া এখনো কোনো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। ইউক্রেনে ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি ও ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও মস্কো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ক্রেমলিনের লক্ষ্য এখনো ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের সামরিক ও বৈদেশিক নীতিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।
সর্বশেষ ফোনালাপে এসব বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের এই নয় মাসে রাশিয়া বুঝে গেছে—ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্বল্পমেয়াদি সাফল্যের প্রতিশ্রুতি কখনো কখনো কঠিন ছাড় দেওয়ার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।
ওয়াশিংটনে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনাই পুতিনকে আবার সংলাপে ফিরিয়েছে।
তাদের ধারণা ঠিকও হতে পারে। কিন্তু মস্কোর হিসাব অনুযায়ী, শুধু শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিতই ট্রাম্পকে সামরিক চাপ থেকে সরিয়ে আনতে যথেষ্ট হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/