দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মরদেহ। চারপাশ ধ্বংসস্তূপে ভরা, মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে—এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন এলাকার জরুরি সেবার প্রধান ফারেস আফানা।
সিএনএনকে তিনি জানান, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত বহু ফিলিস্তিনির মরদেহ রাস্তায় পড়ে আছে। ক্ষুধার্ত ভবঘুরে কুকুর এসব মরদেহে হানা দিচ্ছে। এতে মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আফানা বলেন ‘শিশুদের মরদেহও কুকুর খেয়ে ফেলছে।’
আফানা বলেন, উত্তর গাজায় হাজারো শিশু ও গর্ভবতী নারী আটকা পড়েছে। গত ১২ দিনে তিনটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, জাবালিয়া থেকে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে এখনও চার লাখ মানুষ উত্তর গাজায় অনাহারে জীবন–মৃত্যুর মাঝে দিন কাটাচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি অভিযোগ করেছেন, উত্তর গাজার মানুষকে হয় অনাহারে মরতে হচ্ছে, না হয় এলাকা ছেড়ে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা মানবিক সহায়তা ঠেকাচ্ছে না। সোমবার উত্তর গাজায় ৩০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। তবে আফানা বলেন, ক্ষুধার্ত মানুষ যখন ইউএনআরডব্লিউএ–র গুদামে খাদ্য নিতে যায়, তখন ইসরায়েলি সেনারা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, সোমবার তাদের জাবালিয়ার খাদ্যকেন্দ্রে আর্টিলারি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছে।
আফানা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকর্মীরা রাস্তায় নামলেই ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালাচ্ছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আর্টিলারি হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তর গাজায় যা ঘটছে, সেটি প্রকৃত গণহত্যা।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে উত্তর গাজায় অন্তত ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু মঙ্গলবারই মারা গেছে অন্তত ১৭ জন।
স্থানীয় সাংবাদিক আবদুল করিম আল–জুওয়াইদি বলেন, ইসরায়েলি বুলডোজারে জাবালিয়ার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগে এখানে শিশুরা খেলত, মানুষ উৎসব করত। এখন সব শুধু ছাই হয়ে গেছে।
/অ