দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পঞ্চগড় চিনিকল এলাকায় আখচাষি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দেশের সম্পদ, তাই সেগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর দায়িত্ব সরকারের।
মন্ত্রী জানান, দেশের অধিকাংশ চিনিকলের বয়স ৫০ বছরের বেশি হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। কোথাও নতুন যন্ত্রপাতি বসাতে হবে, কোথাও অবকাঠামো মেরামত জরুরি। কিছু মিলের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে সব সিদ্ধান্তে আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পরিচালনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া উৎপাদন চালু করলে তা টেকসই হবে না। তার ভাষায়, চালা ঠিক না করে চিনি বানালে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে।
সরকারের মতে, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু হলে শুধু কারখানার শ্রমিক নয়, পরিবহন, কৃষি, বাজারব্যবস্থাসহ স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে। এ কারণে শিল্প পুনরুজ্জীবনকে দারিদ্র্য কমানোর একটি উপায় হিসেবেও দেখছে সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন মুহম্মদ নওশাদ জমির, মো. ওবায়দুর রহমান, মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, শ্রমিকনেতা ও আখচাষিরা।
সভা শেষে শ্রমিক ও আখচাষিদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে উৎপাদনে যায়। একসময় উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মিল ব্যয় বৃদ্ধি, আখ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ধারাবাহিক লোকসানের কারণে সংকটে পড়ে। ২০২০ সালে সরকারের সিদ্ধান্তে দেশের আরও কয়েকটি চিনিকলের সঙ্গে এর মাড়াই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
জে আই