দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত হওয়ার ভুয়া খবর টেলিভিশনে দেখে হতবাক হয়েছেন ইসরায়েলি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট নোয়া তসিওন। ইসরায়েলের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এ তাকে ইরানের বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে একজন হিসেবে দেখানো হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
নোয়া তসিওন জানান, নিজ বাসায় বসে টিভি দেখার সময় হঠাৎ নিজের ছবি ‘ইরানের বিক্ষোভে নিহত ইহুদি’ হিসেবে দেখানো হতে দেখে তিনি চরম বিস্মিত হন। চ্যানেল ১২ দাবি করেছিল, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়ের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে ইহুদি বংশোদ্ভূত চারজন ইরানি নিহত হয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য যাচাই কঠিন বলেও উল্লেখ করা হয় খবরে।
ওই প্রতিবেদন প্রচারের পর আরও কয়েকটি ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সামাজিক মাধ্যমে একই দাবি ছড়িয়ে যায়। কেউ কেউ নিহত ইহুদিদের সংখ্যা পাঁচ বলেও দাবি করেন। ডানপন্থি ঘরানার কাছাকাছি হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ১৪ যাচাই ছাড়াই জানায়, নিহতদের মধ্যে একটি পরিবার ও একজন কিশোর রয়েছে এবং তেহরানের রাস্তায় তারা নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, সারা দেশে ৩৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, যা কোনো সূত্র ছাড়াই প্রচার করা হয়।
এই খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নোয়া তসিওন টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি বাড়িতেই আছি। আধা ঘণ্টার মধ্যে ট্রেনিংয়ে যেতে হবে।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার ইরানে কোনো আত্মীয় বা পরিচিত নেই এবং তিনি কখনো সেখানে যাননি।
ভুল প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গণমাধ্যম প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়নি। চ্যানেল ১২ পরে জানায়, ইরানে নিহত ইহুদিদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেখান থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে নোয়া তসিওনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ বেড়েছে এবং অনেকেই ভুয়া সংবাদ প্রকাশের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরান থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন, যা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে। এই বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাজ করেছে বলে অভিযোগ আনে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কে