দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ১০ দিন বয়সী ভেড়া তার অভিনব কাণ্ডের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে। ক্রেতা কাছে এলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ‘মরার ভান’ ধরার অভিনয়ের কারণে নেটিজেনরা তাকে ‘ড্রামা কুইন ল্যাম্ব’ উপাধি দিয়েছেন।
ভেড়াটির জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে, এক ব্যক্তি কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ২৩ লাখ টাকা) প্রস্তাব দিলেও ভেড়াটির মালিক তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নিংশিয়া অঞ্চলের শিজুইশান শহরের পিংলুও কাউন্টির বাওফেং টাউনের ঝংফাং গ্রামের কৃষক জিন শিয়াওলিন চারটি বেড়া স্থানীয় এক বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যান। এর মধ্যে তিনটি বাজারদরে প্রতিটি ৪২০ ইউয়ান দামে বিক্রি হলেও চতুর্থ ভেড়াটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।
জিন বলেন, ‘কেউ ভেড়াটিকে ছুঁতে গেলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গিয়ে মরে যাওয়ার ভান ধরে। এতে ক্রেতারা একে অসুস্থ ভেবে কিনতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু লোকজন চলে গেলেই ভেড়াটি আবার উঠে স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। তবে শুধু শিশুদের সঙ্গে এটি বন্ধুসুলভ আচরণ করে।’
জিন শিয়াওলিন স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত ভেড়াটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনি। ভেড়াটি কাউকে আসতে দেখলেই শুয়ে পড়ে মরে যাওয়ার ভান করে। প্রতিদিন মানুষ শুধু এটিকে দেখতেই আসে, কেউ কেউ ফোন করে খোঁজ নেয়। এমন আদুরে প্রাণী আমি কীভাবে বিক্রি করি?’
পরে জিনের এক আত্মীয় ভেড়াটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়। এই প্রাণীকে ঘিরে তৈরি ভিডিওগুলো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১ কোটির বেশি ভিউ হয়েছে।
ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ইউয়ানে ভেড়াটিকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও জিন তা বিক্রি করতে রাজি হননি। তিনি জানান, তার উদ্দেশ্য ভেড়াটি বিক্রি করা নয়; বরং এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিশেষ পণ্য—যেমন ভেড়ার মাংস, গোজি বেরি ও ‘এইট-ট্রেজার’ চা—প্রচার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জিনের বাড়িতে ভিড় করছেন ভেড়াটিকে একনজর দেখার জন্য। পাশাপাশি অনলাইনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাকে মেসেজ পাঠিয়ে দেখা করার অনুমতি চাইছেন।
এদিকে, চীনা নেটিজেনদের মধ্যে ভেড়াটিকে বিক্রি করা উচিত কি না—এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এর জীবন রক্ষার জন্য বিক্রি করাই ভালো। আবার অনেকে বলছেন, এত বুদ্ধিমান ও আদুরে প্রাণী কোনো অর্থমূল্যে বিক্রি করা যায় না।
সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
/অ