দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ অবস্থায় তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে।
মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’র সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হচ্ছে এবং এর ফল হবে কেবল অস্থিতিশীলতা। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপ ও বিদেশি হস্তক্ষেপসহ সাম্প্রতিক শত্রুতামূলক তৎপরতা ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা উত্তেজনা প্রত্যাখ্যানের কথা জানান এবং পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় রিয়াদের প্রস্তুতির কথা বলেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগে সৌদি আরবের সমর্থনের কথাও জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুবরাজের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার তেহরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের দিকে একটি বড় নৌবহর পাঠানোর কথা জানালেও তা ব্যবহার না করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার আইওয়ায় এক বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের দিকে একটি শক্তিশালী নৌবহর এগোচ্ছে এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ যদি তাদের ভূমি, আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে। এই সংঘাতের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছিল। যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করলেও আলোচনা আর শুরু হয়নি।
সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ইরানের নতি স্বীকারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তার মতে, চাপের মুখে সমঝোতা সমস্যার সমাধান করে না, বরং আরও চাপ ডেকে আনে।
এর মধ্যেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দেশটির ওপর হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কোনো ভাঙন কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।
সূত্র- আল জাজিরা
এমএস/