দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে সমর্থন জানাল। প্যারিসে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠকে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রতিশ্রুতিতে যুক্ত হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা আলেক্সাস গ্রিনকেভিচ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে স্টিভ উইটকফ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের নিরাপত্তা প্রোটোকলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাশিয়ার ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ করবে এবং প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জ্যারেড কুশনার বলেন, কোনো চুক্তি হলে ইউক্রেনকে নিশ্চিত হতে হবে যে চুক্তির পর দেশটি নিরাপদ থাকবে এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বৈঠকের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই ব্যবস্থায় মিত্র দেশগুলো অংশ নেবে। এই ব্যবস্থায় সেনা নয়, বরং ড্রোন, সেন্সর ও স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠকের পর বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপ ও মিত্রদের বাস্তব নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করার আন্তরিকতার প্রমাণ। তবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কীভাবে কার্যকর হবে এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অর্থায়ন ও সহায়তা কীভাবে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
যৌথ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অনুমোদন না দিলেও ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ইতালির নেতারা বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, প্রয়োজনে হাজার হাজার ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এই উদ্যোগ ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/