দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর। ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘটনায় ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে রূপ নেয়। এর পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার বক্তব্য ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোট ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড হলো বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি আয়তনে প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার। দ্বীপটির ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা বরফে ঢাকা। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ইনুইট জনগোষ্ঠীর। অর্থনীতি মূলত মাছ ধরা নির্ভর।
ভৌগোলিকভাবে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মাঝখানে অবস্থিত এবং গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ বা জিআইইউকে গ্যাপের অংশ। এই পথ দিয়ে আর্কটিক অঞ্চল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে যাতায়াত হয়, যা সামরিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজ সম্পদের বিশাল মজুত। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক অস্ত্র তৈরিতে এসব খনিজের গুরুত্ব বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে গেলে এসব সম্পদ আহরণ আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, খনিজ নয়, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।
নাটো জোটের ভেতরে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। ইউরোপের বড় কয়েকটি দেশ ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কেরই।
গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিতে স্বাধীনতার প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। ১৯৫৩ সালে এটি ডেনমার্কের অংশ হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসন বাড়লেও পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। অনেক গ্রিনল্যান্ডবাসী স্বাধীনতা চান, তবে ডেনমার্কের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে খুব কম মানুষই আগ্রহী।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের ঘর, আমাদের ভূমি। এটি কখনো অন্য কারও হবে না।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/