দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। তার ভাষায়, বিক্রির অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেলগুলো সংরক্ষণ জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সরাসরি দেশটির বন্দরে খালাস করা হবে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই তেল আগেই উৎপাদন করা হয়েছে এবং এর বড় অংশ বর্তমানে জাহাজে রয়েছে। সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিশোধনাগারে পাঠানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেলের পরিমাণ বড় মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে দুই কোটির বেশি ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়। ফলে এতে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে, তবে জ্বালানির দামে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
ভেনেজুয়েলার তেলের বর্তমান বাজারদর ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫৫ ডলার। সেই হিসাবে এই তেল বিক্রি করে ১৬৫ কোটি থেকে ২৭৫ কোটি ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে এত বড় পরিমাণ তেল হস্তান্তরের ফলে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব মজুত কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের ধারণা, স্থলভিত্তিক মজুতাগার ও জব্দ করা ট্যাংকার থেকেই এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল খুব ভারী হওয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা কঠিন, তাই দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধন না হলেও নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/