দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ড্রোন এখন যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে। ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য। রাশিয়ার যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
ইউরোপীয় কমিশনের নতুন ‘প্রতিরক্ষা রোডম্যাপে’ পূর্ব সীমান্ত শক্তিশালী করা এবং আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষার জন্য নতুন ‘শিল্ড’ তৈরির পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ও ড্রোন কয়েকটি ইইউ সদস্যদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের পর এই পরিকল্পনা সামনে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইউরোপকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্যালাস বলেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ হলেও বিপদ দূর হবে না। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরক্ষা আরও শক্ত করতে হবে।’
ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিয়ুস জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করা— যাতে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধ, যুদ্ধ ঠেকানো এবং শান্তি রক্ষা সম্ভব হয়।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য ইইউ-তে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, ‘রাশিয়া ইউরোপ বা ন্যাটো দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে— এই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অযৌক্তিক।’
ইইউ কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউনিয়নকে যেকোনো উচ্চমাত্রার সংঘাত বা সংকটে সাড়া দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর মধ্যে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং আর্টিলারি ব্যবস্থায় যৌথ উন্নয়ন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
নতুন প্রতিরক্ষা রোডম্যাপটি আগামী সপ্তাহে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সদস্যদেশ সীমান্তে বহুস্তরীয় ‘ড্রোন ওয়াল’ গড়ে তোলার উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে, যা রাশিয়ার ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসে কাজ করবে।
সম্প্রতি পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের অভিযোগে ইউরোপ-রাশিয়া উত্তেজনা বেড়েছে। এস্তোনিয়া ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকেরও আহ্বান জানিয়েছে।
ন্যাটো জানিয়েছে, ইইউ’র এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তাদের সহযোগিতায় করা হবে, যাতে কোনো কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/