দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় নতুন এক রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও)
সম্মেলনে তারা বলেন, এই নতুন বিশ্বব্যবস্থা পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে গিয়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর (উন্নয়নশীল দেশগুলোর) স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ২০টিরও বেশি অ-পশ্চিমা দেশের নেতারা যোগ দেন। শি জিনপিং বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও গণতান্ত্রিক করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এখন এক
মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেন।
তবে শি তার ঘোষিত ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এ কোনো সুস্পষ্ট নীতি তুলে ধরেননি। এর আগে তিনি মার্কিন শুল্কনীতির বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, পুতিন বলেন, এসসিও প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। জাতীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ায় ইউরোপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা মডেলের বিকল্প হিসেবে ইউরেশিয়ায় নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
শি সম্মেলনে একটি নতুন এসসিও উন্নয়ন ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া সদস্য দেশগুলোকে ২ বিলিয়ন ইউয়ান বিনামূল্যে সহায়তা ও ১০ বিলিয়ন ইউয়ান ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা কেন্দ্র গড়ার পাশাপাশি এসসিও
দেশগুলোকে চীনের চন্দ্র গবেষণা প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিয়ানজিন সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সাত বছর পর চীন সফরে গেছেন মোদি। সম্মেলনের ফাঁকে শি ও মোদি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন এবং দুই দেশকে
প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এমএস/