দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সার্জিও গরকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশ —এই অঞ্চলের কূটনৈতিক সম্পর্কও তিনি দেখভাল করবেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী গর ট্রাম্প পরিবারের অত্যন্ত কাছের মানুষ। তিনি ট্রাম্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন, ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন এবং এমনকি ট্রাম্প পরিবারের প্রকাশনা সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। ট্রাম্প তাকে বিশ্বস্ত বন্ধু আখ্যা দিয়ে বলেছেন, গর তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নে পুরোপুরি ভরসাযোগ্য।
তবে এই নিয়োগ ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, হোয়াইট হাউজের এত ঘনিষ্ঠ একজনকে পাঠানো ইতিবাচক হতে পারে। আবার সমালোচকদের মতে, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশকে একই সঙ্গে দায়িত্বে রাখাটা ভারতের জন্য অস্বস্তিকর। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লি চায় না তাকে পাকিস্তানের সঙ্গে একই পাল্লায় মাপা হোক। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা লরেন্স হাস মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকে ফুল-টাইম না করে এভাবে ভাগ করে দেওয়া ভারতের কাছে অপমানজনক মনে হতে পারে।
এমন নজির অতীতেও আছে। ২০০৯ সালে ওবামা প্রশাসন রিচার্ড হোলব্রুককে ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান বিষয়ক দূত করার চিন্তা করেছিল। দিল্লির আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দায়িত্বই তাকে দেওয়া হয়।
গরের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের এত কাছের একজন রাষ্ট্রদূত ভারতে পাঠানোয় দু’দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটাতে সুবিধা হতে পারে। আবার অন্যদের মতে, অভিজ্ঞতার অভাব উল্টো সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
গরের ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনায় রয়েছে। ১৯৮৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ উজবেকিস্তানে জন্ম তাঁর। শৈশব কাটিয়েছেন মাল্টায়, আর ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। রিপাবলিকান রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন কলেজ জীবন থেকেই। পরে ধাপে ধাপে উঠে এসে ট্রাম্পের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহযোগীদের একজন হয়ে ওঠেন।
গর শুধু রাজনীতিতেই নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। নিয়মিত মার-এ-লাগোতে যাতায়াত করেন, এমনকি ট্রাম্পপন্থি অনুষ্ঠানে ডিজেও করেছেন। যদিও এলন মাস্ক একবার তাকে “সাপ” বলে কটাক্ষ করেছিলেন নিরাপত্তা ছাড়পত্রের কাগজপত্রে জটিলতা নিয়ে।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে শুল্ক যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে কঠিন সময় পার করছে। এখন দেখার বিষয়, সার্জিও গর এই জট খুলতে সক্ষম হন, নাকি দিল্লি তাঁর নিয়োগকে চপেটাঘাত হিসেবেই দেখবে।
এমএস/