দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি তিয়ানজিনে সাক্ষাৎ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে দুই এশীয় পরাশক্তির এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কয়েক মাস আগেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। পাকিস্তান সে সময় ব্যাপকভাবে চীনা অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যদিও ভারত প্রকাশ্যে চীনের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি, তবে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল—
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা কি আদৌ সম্ভব?
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রপ্তানিপণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করায় দিল্লিকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
এই ধাক্কায় ভারতের সামনে দুটি পথ ছিল—রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা অথবা দৃঢ় অবস্থানে থেকে বিকল্প সম্পর্ক খোঁজা। প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিতীয় পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
বৈঠকের তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করার প্রতিশ্রুতি এসেছে। তবে সীমান্তে উত্তেজনা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ব্যাপক ঘাটতির মতো বড় বাধা এখনো রয়ে গেছে।
বৈঠকে শি জিনপিং আবারও তাঁর প্রচলিত বাক্য ব্যবহার করেন—'ড্রাগন আর হাতি একসঙ্গে চলবে।' তিনি বলেন, বিশ্বের দুই জনবহুল দেশের সম্পর্ক মজবুত হলে তা বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নে সহায়ক হবে।
চীনের ধারণা, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে আসছে। আর এই মুহূর্তে ভারতের কাছে নতুন অংশীদার দরকার। তাই মোদির সফরকে বেইজিং একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
চ্যালেঞ্জ অবশ্যই রয়ে গেছে। পাকিস্তানের প্রতি চীনের সমর্থন, সীমান্ত বিরোধ, এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে জমে ওঠা অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা। তবুও সাম্প্রতিক আলোচনায় সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
মোদির সফরের প্রতীকী গুরুত্বও কম নয়। ট্রাম্প যখন ভারতের ওপর শুল্ক চাপাচ্ছেন, তখন চীনের মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদি ও শি হাত মেলালেন। শুধু তাই নয়, এ বৈঠক হয়েছে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের
সাইডলাইনে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভ্লাদিমির পুতিনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে দুর্বল করবে, নাকি নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে? আগামী মাসগুলোতে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই দ্বন্দ্বই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।
এমএস/