দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সকল প্রকার খাবারের মধ্যে বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টির পাশাপাশি এটি অত্যন্ত সুস্বাদুও। বাদাম নিয়মিত খেলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে যায়। গবেষণায় জানা গেছে বাদাম খাওয়ার ফলে অনেক রোগ মুক্তির সঙ্গে মস্তিষ্কে পুষ্টি জোগায়। ফলে যেসকল মানুষ মনে রাখতে পারে না। তাদের মনে রাখতে সাহায্য করে। বাদামে প্রচুর আঁশ ও পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারি উপাদানও রয়েছে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দৈনিক ১০ গ্রাম করে বাদাম গ্রহণ করলে মৃত্যুর জন্য দায়ী কয়েকটি বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
বাজারে অনেক রকমের বাদাম পাওয়া যায়। যা আলাদা আলাদা ভিটামিন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং এদের স্বাদও ভিন্ন। তবে আমাদের দেশে চার ধরনের বাদাম বেশ জনপ্রিয়। এগুলো হলো চীনা বাদাম, কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম ও পেস্তা বাদাম। বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে মনো ও পলি অ্যানস্যাচুরেটেড ফ্যাটস, প্রোটিন ও ডায়েটারি ফাইবার যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আরো কিছু মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন জিংক ও ম্যাঙ্গানিজ, কপার, সেলেনিয়াম।
চিনাবাদামে আছে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ভিটামিন-এ, বি, সি। আর এই ভিটামিন আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারি।
এটি প্রোটিনের সম্পূর্ণ উৎস। ভোরে খালি পেটে এই বাদাম খেলে এনার্জি পাওয়া যায়। এটি নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে হার্ট ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারানোয় স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। চিনাবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। এটি আমাদের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এমনকি রক্তের শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কাঠবাদাম অত্যন্ত পরিচিত ও সস্তা ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’, ‘ই’, ‘ডি’ এবং উপকারী ফ্যাট। গুণাগুণ দিক থেকে বিবেচনা করে দেখলে এটিকে বলা হয় সুপার ফুড। কাঠবাদামের ভিটামিন ‘বি’ মস্তিষ্কের কোষ উন্নত এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি প্রখর হবে। পানিতে ভিজিয়ে কাঠ বাদাম খোসা ছুলে খেতে হবে। তবে অবশ্যই এটি তেলে ভাজা ও লবণমুক্ত হতে হবে। এতে থাকা ফাইটোস্টেরল ও মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া কাঁচা কাঠবাদাম থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে। যার ফলে সহজে দেহের ওজন কমে। এছাড়া কাঠবাদামে থাকা উপাদান শরীরকে চর্বি শোষণ করতে দেয় না বরং তা বের হয়ে যায়। কাঠবাদামের ভিটামিন ‘ডি’ ও ম্যাগনেসিয়াম চুল পড়া রোধ এবং মাথার ত্বক উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ‘ই’ ত্বকের রুক্ষতা-শুষ্কতা দূর করতে বেশ উপকারি আবার এই বাদামের রস ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ, সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।
এছাড়াও বাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কাঠবাদাম ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, খাবারের পর কাঠবাদাম খেলে এটি ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চীনা বাদাম খুবই উপকারী। এটি রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও হাড় ও দাঁত গঠনে বাদাম বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বাদামের অনেক উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলেন, যেহেতু বাদাম একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, তাই এটি পরিমিত খাওয়া উচিৎ। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ গ্রামের বেশি বাদাম খাওয়া উচিৎ নয়। যাদের কিডনি ও গলব্লাডারের সমস্যা রয়েছে তাদের কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে বিদ্যমান অক্সালেট ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। আবার, অতিরিক্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ হওয়ায় বাদাম বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। অপরদিকে, বাদাম যদি লবণ দিয়ে ভেজে খাওয়া হয় তাহলে সেটি ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ পেতে হলে আমদের পরিমিত পরিমাণ বাদাম খেতে হবে।
এস