দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করতে পারে এমন একটি চুক্তির বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে।
শনিবার দামেস্কে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাইবানি বলেন, সিরিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রয়েছে জানিয়ে শাইবানি বলেন, আলোচনা আবার শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সম্প্রতি একটি সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য যে পক্ষটি নিয়মিত হুমকি সৃষ্টি করছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই যোগাযোগ থেকে কোনো ফল না এলে এর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে আমরা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করি না।
সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন ও সিরীয় সরকারি স্থাপনায় হামলার কারণে এ উদ্যোগ এখনো সফল হয়নি। ইসরায়েল এসব পদক্ষেপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছে।
শাইবানি বলেন, ইসরায়েল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোথাও সফল হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি জানান, আলোচনার টেবিলে ইসরায়েলকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সিরিয়ার বড় ধরনের আশা রয়েছে। দেশটি সমঝোতা, শান্তি, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
শাইবানি জানান, চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তা চুক্তির বেশির ভাগ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ কাগজে প্রায় একমত হয়েছিল। প্রস্তাবিত চুক্তিতে সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ এবং আসাদ সরকারের পতনের পর দখল করা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তির আওতায় ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তবর্তী সিরীয় ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনাও ছিল। এর মধ্যে একটি বাফার জোনে শুধু জাতিসংঘের উপস্থিতি থাকার কথা ছিল। অন্য অঞ্চলগুলোতে সীমিত পরিসরে সিরীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও ছিল।
তবে শাইবানি অভিযোগ করেন, চুক্তি বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল। তাঁর ভাষ্য, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইসরায়েলের প্রকৃত ইচ্ছা আছে বলে তারা দেখতে পাননি।
মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দুই দেশের উত্তেজনা আবারও সামনে আসে। ইসরায়েলের দাবি ছিল, দামেস্ক সেখানে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। তবে সিরিয়া ও তুরস্ক উভয়েই এ দাবি অস্বীকার করেছে।
শাইবানি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করে। একইভাবে সিরিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকেও ইসরায়েলকে সম্মান করতে হবে। এর মধ্যে সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো রয়েছে।
সিরিয়া ও ইসরায়েল ১৯৪৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে।
শাইবানি বলেন, নিরাপত্তা চুক্তিতে যাওয়ার আগেই ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করা এখন অগ্রাধিকার। এরপর শান্তি ও গোলান মালভূমির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
সিরিয়া, তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম বারাক। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি বলে জানান শাইবানি।
তিনি বলেন, ওই ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত হামলা বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা চুক্তির পথ তৈরি করা। এটি কোনোভাবেই ইসরায়েলি দখলদারত্বকে স্থায়ী করার ব্যবস্থা হতে পারে না।
শাইবানি আরও বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলকে বার্তা দিয়েছিল যে আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটি তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। এরপরও সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সিরিয়া তুরস্কের সহায়তা নিচ্ছে। একইভাবে জর্ডান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ থেকেও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনে তুরস্কের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শাইবানি বলেন, এই সহযোগিতা তারা বন্ধ করবে না।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/