দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শনিবার সিরিয়া সফরে যাচ্ছেন। ২০১১ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর দায়িত্বে থাকা কোনো জাতিসংঘ প্রধানের এটাই হবে প্রথম সিরিয়া সফর।
প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর গুতেরেসের এই সফর সিরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়া নতুন এক রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে রয়েছে। ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা করছে।
আসাদের পতনের পর গুতেরেস বলেছিলেন, ‘সিরিয়ায় স্বৈরশাসনের অবসান’ অঞ্চলটির জন্য আশার বার্তা।
সফরে গুতেরেস সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করবেন। শারা একসময় সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, গুতেরেস সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানিসহ দেশটির সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
দুজারিক বলেন, গুতেরেস জোর দিয়ে বলবেন যে সিরিয়ার সামনে শুধু সংঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নয়, বরং আরও স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ রয়েছে।
গুতেরেস কয়েক দিন দামেস্কে অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সফরের বিস্তারিত সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সিরিয়ায় তার সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার চেষ্টা করছে। প্রায় ১৪ বছরের যুদ্ধ এবং আসাদ পরিবারের কয়েক দশকের শাসনের পর নতুন সরকার দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। গত বছর সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারি সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় আসাদ সম্প্রদায়ভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ আলাওয়িত নিহত হয়। এর কয়েক মাস পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ নিহত হন।
উভয় ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন গুতেরেস।
আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর ২০১৬ সালে শারা ইসলামপন্থি বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্বে আসেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের আকস্মিক অভিযানে ওই জোট আসাদ সরকারকে উৎখাত করে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর শারার সরকার রাশিয়া ও ইরানের বাইরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে। গত বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেন, যা ১৯৬৭ সালের পর কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্টের প্রথম অংশগ্রহণ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর থাকা বেশিরভাগ কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসে শারাকে জানিয়েছেন, সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
গুতেরেস সোমবার সিরিয়ার নতুন পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীও পরিদর্শন করবেন, যারা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যে একটি বাফার জোন বজায় রেখেছে।
আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ সিরিয়ার নতুন কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান নিয়েছে। দামেস্ক তাদের প্রত্যাহার এবং ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ