দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ ও চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এ রায় দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসনে রয়েছেন। আদালত তাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।
দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তাপ্রধান আতেফ নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন নাজিব। ওই ঘটনা পরবর্তী সময়ে গণঅভ্যুত্থান ও গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। রায় ঘোষণার সময় কারাগারের পোশাক পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজিব।
আদালত জানিয়েছে, নাজিবের অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো। বিচারক ফাখর আল-দীন আল-আরিয়ান বলেন, নাজিব তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কোনো অনুশোচনা দেখাননি।
বাশার আল-আসাদের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফাহদ আল-ফ্রেইজ এবং ২০১১ সালে দারা প্রদেশে দায়িত্ব পালন করা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান লুয়াই আল-আলিসহ আরও কয়েকজন সাবেক সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক সরকারের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলতি বছর বিচার শুরু করার পর অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের অধীনে এটিই বাশার আল-আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রথম রায়।
বিচারক আল-আরিয়ান আদালতে বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সাবেক সিরীয় নেতার অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এসব অপরাধের ‘সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন।
রায় ঘোষণার পর দামেস্কের আদালতের বাইরে মানুষের ভিড় জমে। তাদের কেউ কেউ যুদ্ধের সময় নির্যাতন ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের ছবি তুলে ধরেন। সিরিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাশার আল-আসাদ ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় ভবিষ্যতে তার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার কাছে বাশার আল-আসাদকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। মস্কোর দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং দেশটি তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক বজায় থাকলেও এখন পর্যন্ত বাশারকে প্রত্যর্পণে রাজি হয়নি মস্কো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে বাশারকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে লেবাননসহ অন্য দেশে অবস্থানরত বাশার আমলের কর্মকর্তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সিরিয়ার সরকার লেবাননের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে দেশটিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যেসব দেশে বাশার আমলের পলাতক বা আটক কর্মকর্তারা রয়েছেন, তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছে দামেস্ক।
/অ