দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে রাশিয়া আরও প্রায় ৩ লাখ সেনা সমাবেশ করতে পারে। পূর্ব ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত একটি অঞ্চল দখলের চেষ্টা জোরদার করতে মস্কো এ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার প্রকাশিত এক বিস্তৃত বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, বিপুল জনবল হারানোর পরও বছরের শুরুতে ইউক্রেনের যতটা ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে ছিল, বছর শেষে দখল করা ভূখণ্ডের পরিমাণ প্রায় একই থাকতে পারে।
জেলেনস্কির দাবি, চলতি বছর এখন পর্যন্ত রাশিয়া ২ লাখ ৬৭ হাজার সেনা হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন হিসাবের সঙ্গে এ দাবির কিছুটা সামঞ্জস্য রয়েছে।
আগামী মাসে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর নতুন করে সেনা সমাবেশের ঘোষণা আসতে পারে বলে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার সেনা সমাবেশের ঘোষণার পর দেশটিতে বিক্ষোভ ও তরুণদের দেশ ছাড়ার ঘটনা ঘটেছিল।
জেলেনস্কি বলেন, আমরা নিশ্চিত যে নির্বাচনের পর তারা সেনা সমাবেশ করবে। তবে বড় শহরগুলোতে এটি করা হবে না বলে আমরা মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্ব ইউক্রেনে নতুন করে সমাবেশ করা ৩ লাখ সেনাকে মোতায়েন করতে পারেন। দোনেৎস্ক পুরোপুরি দখলের জন্য বছরের শেষ নাগাদ অভিযান শেষ করার নির্দেশ রুশ বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকায় এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনী অবস্থান করছে। এর মধ্যে স্লাভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহর রয়েছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার পক্ষে পুরো দোনেৎস্ক দখল করা সম্ভব হবে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও আশঙ্কা করেন, রাশিয়া দেশটির উত্তরাঞ্চলের খারকিভ ও সুমি অঞ্চলেও নতুন করে অভিযান চালাতে পারে। সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক সরঞ্জাম দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, ২০২৩ সালে ইউক্রেনকে ৬৭৫টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলেও চলতি বছর এ সংখ্যা ২৬৪-তে নেমে আসতে পারে। তাঁর দাবি, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্যাট্রিয়টই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।
জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে সরবরাহ করে, তবে কিয়েভ এর মূল্য পরিশোধ করতে প্রস্তুত। এমন উদ্যোগ জীবন রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউরোপের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এস্টার নিয়েও একই ধরনের সংকট রয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। তাঁর ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চললেও প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম।
এদিকে রাশিয়ার ভেতরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো শনাক্ত করে সেগুলোতে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেন। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার সামরিক শিল্প বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
ইউক্রেন নিজেদের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ছবি সংগ্রহের অনুমতি পাওয়ার বিষয়েও ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, মাস্ক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে মাস্ক যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে নন বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, আগামী গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ অবসানের একটি সুযোগ রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার জোরালো হয়ে উঠবে।
তিনি জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এমন একটি কাঠামো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যাতে ইউক্রেনকে দোনবাস থেকে সরে যাওয়া বা অন্য কোনো অগ্রহণযোগ্য সমাধান মেনে নেওয়া ছাড়াই রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানো যায়।
জেলেনস্কি বলেন, জ্যারেড, স্টিভ ও তিনি যুদ্ধ বন্ধের বাস্তবসম্মত বিকল্পগুলো এক পাতায় সংক্ষেপে তুলে ধরার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই নথি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/