দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে বিক্রি করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র দিলেও আসন্ন শীত পার করে ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর ১০ শতাংশ পেলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের কাছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষের দিকে চলে যাওয়ায় রাশিয়া এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, চলতি বছর ইউক্রেনের হাতে ২০২৫ সালের তুলনায় আড়াই গুণ কম ইন্টারসেপ্টর রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া প্রতি মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, ৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পেলেই শীত পার করে মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর ১০ শতাংশ পেলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের মাত্র ১ শতাংশের মতো সহায়তা তাঁর হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলেনস্কির দাবি, বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের কারণে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ইউক্রেনে, যেখানে কিছু রাতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সামনে শহরগুলো প্রায় অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।
জেলেনস্কির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। তবে এসব আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগের সিদ্ধান্ত বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের সেনাবাহিনী, মিত্র ও অংশীদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ন্যাটোর আঙ্কারা সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান। তবে কয়েক দিন পর তিনি এ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ সফর করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানান জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, তাঁর হাতে এখনো ৫ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর নেই এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ চান জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না এবং তাঁর ওপর যথেষ্ট চাপও নেই।
তবে দোনবাসের যে ভূখণ্ড রাশিয়া দখল করতে চায়, তা ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ থামলেও বড় ধরনের বিরতির পর পুতিন আবার এক থেকে দুই মিলিয়ন সেনা নিয়ে হামলা চালাতে পারেন। পশ্চিমা কয়েকটি দেশের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, পুতিন ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিরুদ্ধেও সংঘাত বাড়াতে পারেন এবং বাল্টিক অঞ্চলের ছোট ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য, পুতিন এমন একটি দ্রুত ও নিশ্চিত বিজয় চান, যেখানে তিনি কোনো দেশ দখল, ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং বড় ধরনের বিজয় হিসেবে তা রাশিয়ার জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।\
সূত্র: সিএনএন
এমএস/