দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ খুঁজে বের করা গেলে সম্পর্ক কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো সম্পর্ক কার্যকর রাখতে হলে তা দুই পক্ষের জন্যই কিছুটা উপকারী হতে হবে। একটি দেশ শুধু নিজের স্বার্থ অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে সবকিছু আশা করতে পারে না। একইভাবে অন্য পক্ষের স্বার্থকেও সম্মান করতে হবে। দুই পক্ষ এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে পারলে, যেখানে উভয়ের স্বার্থের সমন্বয় হয়, তখনই সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এই ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গাই দুই দেশের সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে বিচারও হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য এই সফর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে এর আগে কয়েকজন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় সফরটি কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এমন পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ভারত শুধু নিজের স্বার্থ অনুযায়ী আচরণ প্রত্যাশা করে না। অন্য দেশের স্বার্থকেও ভারতকে বিবেচনায় নিতে হবে।
এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তাই ঝুঁকি কমানো বা ‘ডি-রিস্কিং’ এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হওয়া উচিত।
কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা বা অর্থনীতিতে কোনো একটি জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
বিশেষ করে জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু কম খরচের দিকে নজর দিলেই হবে না, ভবিষ্যতের ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের ভালো সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। দুই দেশই বড় অর্থনীতি এবং একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গেও ভারতকে ব্যবসা করতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।
সুত্র-দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএম/