দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা হঠাৎ বাতিল করায় আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আবারও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব ফুটলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবল কর্মকর্তারা বলছেন, খেলার ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক কাঠামো বদলে দিতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ পরামর্শ ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী মেয়াদে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থানও এ ঘটনায় চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিফা বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি ইউনিট গঠন করে তার প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। এ থেকে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল সংস্থাটির।
গত মঙ্গলবার পরিকল্পনাটি ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন আঞ্চলিক কনফেডারেশন অভিযোগ তোলে, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। তাদের মতে, এটি বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারত।
বিরোধিতার মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা। তিনি বলেন, বিশ্ব ফুটবলে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগ সময়মতো, স্বচ্ছ ও অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে কনফেডারেশন, ফিফা কাউন্সিল, সদস্য দেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ অবশ্যই পরামর্শ, যৌথ সংলাপ এবং প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি সম্মান দেখিয়েই নির্ধারিত হতে হবে।’
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ফুটবল অস্ট্রেলিয়াও। সংস্থাটির চেয়ারম্যান অ্যান্টার আইজ্যাক বলেন, ‘ফুটবল সব সময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং এগোবে। তবে কিছু মৌলিক নীতি কখনো বদলানো উচিত নয়—সততা, স্বাধীনতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, অর্থবহ পরামর্শ ও যথাযথ প্রক্রিয়া। এগুলো অগ্রগতির বাধা নয়, বরং টেকসই অগ্রগতির ভিত্তি।’
আগামী ২০২৭-৩১ মেয়াদের জন্য চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতির পদে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইনফান্তিনো। ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর তিনি টানা দুইবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ বিতর্কে ফিফার সদস্য দেশগুলোর একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, যা আগামী বছরের মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসের আগে তার পুনর্নির্বাচনের পথকে কঠিন করে তুলতে পারে।
ক্রীড়া বিপণন বিশ্লেষক বব ডরফম্যান বলেন, ‘ইনফান্তিনো অনেক সিদ্ধান্তে একক আধিপত্য দেখিয়েছেন। এতে বহু সদস্য দেশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনসহ কিছু সিদ্ধান্তও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফুটবলে রাজনীতির প্রভাবও বেড়েছে।’
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ ও কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন বলেন, ‘মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ইনফান্তিনো ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রীড়া আসর আয়োজনের সাফল্য উদযাপন করছিলেন। অথচ এখন তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/