দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর ইউরোপের ফুটবল কর্তাদের বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছে উয়েফা। অন্যদিকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি দেশ এখনো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়। এর পরই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। তবে ফিফার ব্যবস্থাপনা পর্যায় থেকে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইনফান্তিনোর সবচেয়ে বড় বিরোধিতা এসেছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং তাদের ৫৫টি সদস্য সংস্থা প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দেয় তারা। পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পরও উয়েফা জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা ফিরেনি এবং বিশ্বকাপ বয়কটের শর্তও এখনো পূরণ হয়নি।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ফুটবল কর্তৃপক্ষও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের অবস্থান জানিয়েছে। আলবেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়াও তার বিরোধিতায় রয়েছে। নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, ফিফাকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনার জন্য ইনফান্তিনোর প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা আর নেই।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি তাদের ৪১ সদস্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে ফিফার নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি তুলেছে। এশীয় ফুটবল সংস্থা এএফসিও উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ফিফার পরিচালনব্যবস্থার জরুরি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে ইনফান্তিনো এখনো বেশ শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছেন আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা ক্যাফের নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ৫৪টি সদস্য সংস্থা নিয়ে ক্যাফ ফিফার দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলও ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে। সংস্থাটির অবস্থান, ফিফা সভাপতির নির্বাচন নির্ধারিত সাংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই হতে হবে। ফলে নির্বাচনের বাইরে কোনো প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না।
দেশগুলোর মধ্যেও ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন রয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার প্রথম দিকেই তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোও কনকাকাফের অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ একটি ‘স্পষ্ট, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ’ পরিচালনব্যবস্থার প্রশংসা করেছে।
এদিকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে, পরিকল্পনাটি বাতিল করে ইনফান্তিনো বিরোধী ও সমর্থক—দুই পক্ষের কথাই বিবেচনায় নিয়েছেন।
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন হওয়ার কথা। ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেতে হবে ইনফান্তিনোকে। তিনি চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হতে চাইছেন। তবে বর্তমান বিরোধের মধ্যেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো বিকল্প প্রার্থী সামনে আসেনি। ফলে ইউরোপের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থন ধরে রাখতে পারলে ইনফান্তিনো নির্বাচনে বড় সুবিধায় থাকতে পারেন।
ইনফান্তিনোর বিরোধিতায়: উয়েফা ও এর ৫৫ সদস্য, ইংল্যান্ড, ওয়েলস, আলবেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, নরওয়ে, কনকাকাফ ও এএফসি।
ইনফান্তিনোর সমর্থনে: ক্যাফ, কনমেবল, কাতার, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল ফেডারেশন।
মধ্যবর্তী অবস্থান: কনমেবল ইনফান্তিনোকে সরানোর বিরোধিতা করলেও তার পরিকল্পনার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে এএফসি প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও বিষয়টিকে শুধু একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ফিফার পরিচালনব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে দেখছে।
/অ