দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুর্নীতির মামলায় পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আদালত পুরো ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করায় শুক্রবার রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হুমালাকে ২০২৫ সালে অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওদেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন হুমালা। পরে সাংবিধানিক আদালত বিচারপ্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয়।
রায়ের পর হুমালার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় পাওয়া অর্থকে অর্থপাচার হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ফলে মামলাটি খারিজ করে হুমালার মুক্তির নির্দেশ দেওয়া উচিত।
কারাগার থেকে বেরিয়ে হুমালা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক ও বিচারিক নিপীড়নের শিকার হয়েছি।’
একই মামলায় তার স্ত্রী নাদিনে এরেদিয়াকেও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে রায় ঘোষণার পর তিনি ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে পরে নিরাপদে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমতি পান।
ওদেব্রেখট দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে তদন্তের মুখে পড়া পেরুর চার প্রেসিডেন্টের মধ্যে হুমালা ছিলেন প্রথম। এ কেলেঙ্কারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো তোলেদো ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্সিয়া ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের মুখে আত্মহত্যা করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির বিরুদ্ধেও একই কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
ওদেব্রেখট লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলকে শত শত কোটি ডলার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার পর ২০১৬ সালে হুমালার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপর তিনি ও তার স্ত্রীকে এক বছর বিচারপূর্ব আটক রাখা হয় এবং পরে ২০২৫ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/