দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সক্ষমতা কমে গেলেও ইরান এখনও প্রতিবেশী দেশ ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ‘ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের নৌবাহিনীও কার্যকর অবস্থায় নেই এবং ইরানের আকাশসীমায় সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের উল্লেখ করে তারা জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি উল্লেখযোগ্য ফল দিচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে বাস্তবে ইরানের হামলা পুরোপুরি থামেনি। সোমবার কাতার জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া সর্বশেষ একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনও সতর্কতা জারি করেছে। আবুধাবিতে একটি গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিহত হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের হামলার মাত্রা বেশি ছিল। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৬৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৪১টি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে সংঘাতের ১৫তম দিনে সেই সংখ্যা কমে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি ড্রোনে নেমে এসেছে।
ইসরায়েলের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও সাম্প্রতিক দিনে তা এক অঙ্কে নেমে এসেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।
তবুও ইরানের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুত ইরানের। বিভিন্ন সূত্রের মতে, তাদের কাছে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র ধ্বংস করার কৌশল নিয়েছে। তবে ইরান বিশাল ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে মোবাইল লঞ্চার এবং গোপন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করায় পুরো সক্ষমতা ধ্বংস করা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইরান একসঙ্গে বড় আকারের হামলা চালাতে পারছে না। তাই তারা সীমিত আকারে এক বা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আঞ্চলিক অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে।
এটি মূলত প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে এবং সতর্ক অবস্থায় রাখতে ‘হ্যারাসমেন্ট ফায়ার’ কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধের কৌশল অনুসরণ করছে। প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/