দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী **নার্গিস মোহাম্মদি**কে আরও সাড়ে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিপ্লবী আদালত। অনশন শুরু করার পর নতুন করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে রোববার তাঁর সমর্থকরা জানিয়েছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর ইরানে ভিন্নমত দমনে যখন কঠোর অভিযান চলছে, তখনই এই রায় এলো।
নার্গিস মোহাম্মদির আইনজীবী মোস্তাফা নিলির বরাতে সমর্থকেরা জানান, শনিবার মাশহাদের বিপ্লবী আদালত তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ‘জড়ো হওয়া ও ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে, দেড় বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ দায়ে এবং দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দূরের খোশফ শহরে তাঁকে আরও দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসনে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় স্বীকার করেনি।
সমর্থকদের মতে, গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশনে থাকা মোহাম্মদি স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় রায় ঘোষণার পর রোববার অনশন ভেঙেছেন। গত ডিসেম্বরে মাশহাদে মানবাধিকার আইনজীবী খসরো আলিকোরদির সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই বিক্ষোভে তিনি ন্যায়বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
৫৩ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি ইরানের মানবাধিকার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অসুস্থতার কারণে তিন সপ্তাহের ছুটিতে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও পরে তা বাড়ানো হয়। ওই সময় তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেন, এমনকি তেহরানের কুখ্যাত ইভিন কারাগারের সামনেও প্রতিবাদ করেন।
এর আগে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও প্রচারণার অভিযোগে ১৩ বছর ৯ মাসের সাজা ভোগ করছিলেন। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন দেন, যেখানে নারীরা হিজাব ছাড়াই প্রতিবাদে নামেন।
কারাবন্দি অবস্থায় একাধিকবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয় মোহাম্মদিকে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাঁর শরীরে ক্যানসারের আশঙ্কাজনক হাড়ের ক্ষত ধরা পড়েছিল, যা পরে অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়। তাঁর আইনজীবীর ভাষ্য, এই অসুস্থতার কারণে জামিনে সাময়িক মুক্তি দেওয়া উচিত।
এদিকে বিক্ষোভের পর ইরানের বিচার বিভাগ ভিন্নমতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রোববার বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি–এজেই বলেন, যারা একসময় বিপ্লবের পক্ষে ছিলেন কিন্তু এখন সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে এক কূটনৈতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানের শক্তি বড় শক্তির কাছে ‘না’ বলতে পারার ক্ষমতায় নিহিত।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সংলাপই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ, তবে চাপ ও হুমকি মেনে নেওয়া হবে না।
এমএস/