দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় আটক হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রোববার ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো অব ইউক্রেন জানায়, সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম উল্লেখ করেনি, তবে একাধিক প্রভাবশালী ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম তাকে আটক হওয়া ব্যক্তিই বলে শনাক্ত করেছে।
গালুশচেঙ্কোকে একটি ট্রেনে করে ইউক্রেন ছাড়ার সময় আটক করা হয়। তিনি কোথায় যেতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। নভেম্বরে ফাঁস হওয়া প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়ায়, যার পর তাকে সরকারের পদ থেকে সরে যেতে হয়।
এই দুর্নীতিকাণ্ডে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট বা তার চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক–এর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, তবু ইয়েরমাকের বাড়িতে তল্লাশির পর তিনি পদত্যাগ করেন।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর তদন্তে বলা হয়েছে, গালুশচেঙ্কোসহ কয়েকজন ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে অর্থ আত্মসাতের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি এনারগোঅ্যাটম–এর ঠিকাদারদের কাছ থেকে তারা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ আদায় করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
‘অপারেশন মিডাস’ নামে পরিচিত এই তদন্তে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নাবু ও বিশেষায়িত দুর্নীতিবিরোধী কৌঁসুলি দপ্তর এসএপি। সংস্থাগুলো নগদ অর্থে ভরা ব্যাগের ছবি প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, এই টাকা ইউক্রেনের বাইরে পাঠানো হয়েছে, যার একটি অংশ রাশিয়ায় গেছে।
এর আগে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি চেরনিশভ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। জেলেনস্কির সাবেক টিভি প্রযোজনা সংস্থা কভারতাল ৯৫–এর সহ-মালিক ব্যবসায়ী তিমুর মিনদিচ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো যখন মারাত্মক চাপে, তখন এই খাত থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিতে জর্জরিত সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য এ ধরনের কেলেঙ্কারি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের অন্যতম শর্ত হিসেবেও দুর্নীতি দমনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/