দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডেট্রয়েটে সিবিএস ইভনিং নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফাঁসির খবর শোনেননি, তবে যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে। উপস্থাপক টনি ডকুপিল বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এমন কাজ করে, তাহলে আমরা খুব শক্ত পদক্ষেপ নেব।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমনে ইরানি সরকারের অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে অন্য কিছু সূত্রে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বিভিন্ন হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্য হবে ‘জয় অর্জন’। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই জয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমেও আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলা, আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি এবং ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। কিন্তু যখন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, আর এখন যদি ফাঁসির কথাও আসে, তখন আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। এটা তাদের জন্য ভালো পরিণতি বয়ে আনবে না।’
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন তোলেন, বিদেশনীতি নিয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় ট্রাম্প কি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে সরে যাচ্ছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার প্রধান মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই এবং দেশটির অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে। তবে তিনি যোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের মতো হুমকি উপেক্ষা করা যায় না এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি নিশ্চিত করাও জরুরি।
পরে ট্রাম্প বলেন, বিদেশে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো তার নিজস্ব নৈতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন নৈতিক মানুষ। আমি মৃত্যু দেখতে চাই না, আমাদের মানুষদের আহত হতে দেখতে চাই না, অন্য পক্ষের মানুষদের কষ্ট পেতেও দেখতে চাই না।’
ভেনেজুয়েলায় অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে প্রতিপক্ষের অনেক লোক মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে ভালো কিছু মনে করি না। অন্য কেউ হয়তো খুশি হতো। কিন্তু আমি না।’
সূত্র- নিউইয়র্ক পোস্ট
এমএস/