দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে চীন। দেশটির মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
চীনের কাস্টমস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো উদীয়মান বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে দেশটি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে।
চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ চললেও চীন অন্যান্য বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। কাস্টমস বিভাগের উপপ্রশাসক ওয়াং জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও চীন এগিয়ে গেছে।’
চীনের উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানি বছরে ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত যন্ত্রপাতি ও শিল্প রোবট। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যান, লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে চীনের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ১৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৯ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকায় ৮ শতাংশ।
তবে চীনের এই বিপুল রপ্তানি বিশ্বজুড়ে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি করছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ অভিযোগ করছে, কম দামে চীনা পণ্যের প্রবাহ তাদের নিজস্ব শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সম্প্রতি বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের সঙ্গে তার দেশের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘টেকসই নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক সমঝোতা হয়। এতে চীনা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়, যদিও এর আগে তা ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এই সমঝোতা এখনো বহাল আছে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা চীনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতাও কাজ করছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে চলমান সংকট এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে সরকারের ব্যর্থতা চীনকে রপ্তানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/