দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। দিল্লি সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আলোচনার পরবর্তী ধাপ শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
সার্জিও গোর জানান, মঙ্গলবার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এতে কারা অংশ নেবেন সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলেননি। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পর্ক বাস্তব ও দৃঢ়। তার ভাষায়, ‘আসল বন্ধুরা কখনও মতভেদে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত সমাধানে পৌঁছায়।’
নতুন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন কিছু মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ভারতের কারণেই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে দেরি হচ্ছে। তবে দিল্লি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা জটিল হয়ে ওঠে। এই শুল্কের মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনাকে কেন্দ্র করে আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৃষি খাতে বেশি প্রবেশাধিকার চাইলেও ভারত এতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে শপথ নিলেও সার্জিও গোর এখনো ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেননি। সোমবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আর কেউ নেই। তিনি মনে করেন, এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশীদারিত্বে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ নয়, তবে উভয় পক্ষই সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য ইস্যু ছাড়াও পাকিস্তান–ভারত বিরোধে মধ্যস্থতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবুও দুই নেতা নিয়মিত ফোনে কথা বলছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার বলেন, একাধিকবার চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। তিনি মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের সেই মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হয়েছিল মোদি ট্রাম্পকে ফোন না করায় চুক্তি আটকে গেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তাহলে আরও শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনেটর জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলও বিবেচনায় রয়েছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতায় পরিণত হয় ভারত। দিল্লি তখন জানায়, বিপুল জনসংখ্যার জ্বালানি চাহিদার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুল্ক আরোপের পর ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
প্রায় এক বছর আগে আলোচনার সূচনা হলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া বড় অর্থনীতিগুলোর তালিকায় ভারতের নাম রয়েছে।
সূত্র-বিবিসি
এমএস/