দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে চলমান বিক্ষোভের পেছনে গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রুত বাড়তে থাকা দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখছে। দেশটির অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়ার পথে, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন।
মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরানের বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। রিয়ালের দরপতন অব্যাহত থাকায় অনেক ইরানি সঞ্চয় রক্ষার জন্য স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে রিয়াল প্রায় ৪০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, যেখানে প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ।
ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৪০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়। ডিসেম্বরে তা কিছুটা কমে ৪২ দশমিক ২ শতাংশ হলেও খাদ্যপণ্যের দাম এক বছরে বেড়েছে ৭২ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণনির্ভর নীতি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের মোট দেশজ উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমতে পারে।
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যয়বহুল ভর্তুকি ব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং জটিল প্রশাসনিক কাঠামোও অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা যায়। এর কয়েক দিন আগেই পার্লামেন্টের চাপের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদত্যাগ করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবদোলনাসের হেম্মাতি, যিনি গত মার্চে পার্লামেন্টে অভিশংসিত হয়েছিলেন।
তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধরে রাখতে পেরেছে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে দেশটি, যা বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য এই আয় যথেষ্ট নয়।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/