দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব বিকল্পের মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সামরিক বাহিনীও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। আমাদের সামনে কিছু খুব শক্ত বিকল্প আছে। আমরা শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি আরও বলেন, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব যোগাযোগ করে আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’
এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে রোববারই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দিলে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের দরপতন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, সহিংসতায় অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে দেশের বাইরে থাকা বিরোধী কর্মীরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে শতাধিক বিক্ষোভকারী রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার বলেন, তার সরকার বিক্ষোভকারীদের কথা শুনতে প্রস্তুত। তবে তিনি ‘দাঙ্গাকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী শক্তি’কে সহিংসতা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে ট্রাম্প মঙ্গলবার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আলোচ্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে সহায়তা দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। মাস্কের স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এর আগেও ইরানে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/