দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু করেছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। আল জাজিরা জানায়, সোমবার ১২ জানুয়ারি আইসিজেতে এই শুনানি শুরু হয়, যা এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো গণহত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এই শুনানি টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে। এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সে সময় রোহিঙ্গারা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানী মিশন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ওই অভিযানে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, সেনাবাহিনীর অভিযানটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী একটি বৈধ পদক্ষেপ, যা কথিত রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে পরিচালিত হয়েছিল।
জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই মামলাটি গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণের পদ্ধতি এবং এর প্রতিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এই মামলাকে ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। দুই সন্তানের মা ৩৭ বছর বয়সী জানিফা বেগম বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার ও শান্তি চাই। সেনারা আমাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে, পুরুষদের হত্যা করেছে এবং নারীদের ওপর ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়েছে।’
অনেক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, আইসিজের রায় বাস্তবায়নের সরাসরি ক্ষমতা না থাকলেও তারা আশা করছেন, এই মামলা তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনবে। সাবেক শিক্ষক ও শরণার্থী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সদস্য মোহাম্মদ সাইয়েদ উল্লাহ বলেন, ‘আমি আশা করি, এই বিচার আমাদের দীর্ঘদিনের ক্ষতগুলোতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।’
মিয়ানমারের উইমেনস পিস নেটওয়ার্কের প্রধান ওয়াই ওয়াই নু বলেন, এই শুনানির সূচনা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আশার বার্তা বহন করছে। তার মতে, বিশ্বকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং মিয়ানমারে দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে দৃঢ় থাকতে হবে।
আইসিজেতে শুরু হওয়া এই শুনানির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপিত হবে। তবে সংবেদনশীলতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে এসব শুনানি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।
রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন লিগ্যাল অ্যাকশন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যদি আইসিজে গণহত্যা সনদের আওতায় মিয়ানমারকে দায়ী করে, তবে তা কোনো রাষ্ট্রকে গণহত্যার জন্য আইনগতভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হবে।
এমএস/