দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে হয় রেজা পাহলভিকে। তেলসমৃদ্ধ হাজার বছরের রাজতন্ত্রের উত্তরাধিকারী হয়েও তখনই শেষ হয়ে যায় তার সিংহাসনে বসার সম্ভাবনা।
প্রায় পাঁচ দশক পর, এখন ৬৫ বছর বয়সে এসে তাকে ঘিরে আবারও রাজপথে স্লোগান উঠছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে শোনা যায় ‘এটাই শেষ লড়াই, পাহলভি ফিরবে’ এবং ‘জাভিদ শাহ’ বা ‘রাজা দীর্ঘজীবী হোন’—এমন স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা ‘রেজা শাহ, তোমার আত্মা শান্তিতে থাকুক’ বলেও স্লোগান দেন।
তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিবিরোধী আন্দোলন দ্রুতই সরকার ও শাসনব্যবস্থাবিরোধী রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানালে আন্দোলনে তার নাম আরও জোরালোভাবে উঠে আসে। যদিও ইরানে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন এখনো নিষিদ্ধ এবং অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহলভিকে ঘিরে এই আগ্রহ আসলে রাজতন্ত্রে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নাকি বর্তমান ধর্মতান্ত্রিক শাসনের প্রতি চরম হতাশা—তা স্পষ্ট নয়। গবেষক ও লেখক আরাশ আজিজি বলেছেন, ‘রেজা পাহলভি বিরোধী রাজনীতিতে প্রভাব বাড়িয়েছেন এবং সামনের সারিতে এসেছেন। তবে তিনি বিভাজনমূলক চরিত্র, সবাইকে এক করতে পারেন এমন নেতা নন।’
ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরানে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অনেক সমালোচককে কারাবন্দি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতাও সীমিত। এর ফলে প্রবাসী ইরানিদের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা বিরোধী শক্তি আরও সক্রিয় হয়েছে এবং সেখান থেকেই রেজা পাহলভির উত্থান।
২০২০ সালে ভুলবশত একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর তিনি প্রথম বড়ভাবে আলোচনায় আসেন। পরে প্রবাসী বিরোধীদের একটি জোট গঠিত হলেও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধে তা ভেঙে যায়। তবে পাহলভি থেকে যান সবচেয়ে পরিচিত মুখ হিসেবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রকাশ্য সমর্থক, যা অনেক ইরানির মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে।
রেজা পাহলভি বলেছেন, বিক্ষোভ সফল হলে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেছেন, ‘তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও পরিষদের কথা বলেন, কিন্তু সেখানে কারা থাকবে, কীভাবে তা গঠন হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নেই।’
বিশ্লেষকদের মতে, পাহলভিকে ঘিরে এই আন্দোলন আসলে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গভীর সংকটেরই প্রতিফলন। দুর্নীতি, নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাবে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম হতাশ। অধ্যাপক নাসরের ভাষায়, ‘ইরানিরা পাহলভিকে বেছে নিচ্ছে তার উপস্থিতির জন্য নয়, বরং তাদের চরম হতাশার কারণেই।’
এই হতাশার মধ্যেই অতীতের স্মৃতিকে সামনে এনে নিজেকে তুলে ধরছেন রেজা পাহলভি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক বয়স্ক ইরানি আমার জন্মদিনের উচ্ছ্বাসের কথা মনে করেন। আর এখন তরুণরা আমাকে বাবা বলে ডাকে। এটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/