দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দুই সপ্তাহ পেরিয়ে আরও তীব্র হয়েছে। রাজধানী তেহরান ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন এলাকায় রোববার পর্যন্ত চলা এসব বিক্ষোভে অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দেশটির পরিস্থিতি বাইরে থেকে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও ইসরায়েল হবে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড ও অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ ও কেন্দ্র আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।’ এ সময় সংসদ সদস্যরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
গালিবাফ আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং গ্রেপ্তারদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি পুলিশ ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’ মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তেহরান ও মাশহাদে পাঠানো ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করছেন। কোথাও গাড়ির হর্ন বাজানো, কোথাও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চিত্রও দেখা গেছে। মাশহাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থানের খবর পাওয়া গেছে, যা শিয়া মুসলমানদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার থাকার কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরকারপন্থী বিক্ষোভের দৃশ্য দেখানো হলেও তেহরান ও মাশহাদের পরিস্থিতি সেখানে তুলে ধরা হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কঠোর দমন-পীড়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা সহায়তাকারীদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা অর্থনৈতিক সংকট ও সরাসরি ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়।
সূত্র: এপি
এমএস/