দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, রোববার ভোর পর্যন্ত চালানো এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিস, গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেইতুন এলাকা এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার আরও কয়েকটি বসতি। এক ঘটনায় খান ইউনিসে আহত এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইসরায়েলি একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়, এতে ওই ব্যক্তি নিহত হন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, জেইতুন এলাকার পূর্বাংশে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুইজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই সঙ্গে গাজা শহরের তুফ্ফাহ ও জেইতুন এলাকায় গোলাবর্ষণ করা হয় এবং পরে সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
ওয়াফার তথ্যমতে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর গাজার জাবালিয়া ও বেইত লাহিয়া এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি উত্তর গাজার উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও ইসরায়েলি নৌবাহিনী থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
গাজা শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজ্জুম জানান, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, গাজা শহরের কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও হামলা চালানো হচ্ছে। রাফাহ, খান ইউনিসের পূর্বাংশ এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ব্যাপকভাবে ভবন ধ্বংস করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ও উত্তর গাজায় তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যারা নাকি তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি ছিল। তবে এসব মৃত্যুর সঙ্গে গাজা সূত্রে জানানো ঘটনার মিল রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। শনিবার তীব্র শীতে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় সাত দিন বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু মারা গেছে। চিকিৎসা সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উষ্ণতার অভাবে শিশুটি প্রাণ হারায়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/