দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু ভূখণ্ড বিনিময়ের বিষয়ে রাশিয়া আলোচনায় প্রস্তুত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি রাশিয়ার অধীনে চেয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক কোমারসান্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে ক্রেমলিনে এক বৈঠকে রাশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন পুতিন। বৈঠকে তিনি বলেন, আগেও যে অবস্থান তিনি তুলে ধরেছিলেন, রাশিয়া এখনো সেটিতেই অনড় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘ডনবাস আমাদের।’ ডনবাসের বাইরে কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে ভূখণ্ড বিনিময়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ডনবাসের যেসব অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আছে, সেগুলো ছাড়ার দাবি এবং রুশ নিয়ন্ত্রণাধীন জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাশিয়ার কর্মকর্তারা এর আগে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া বৈঠকে কিছু ‘বোঝাপড়া’ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন।
কোমারসান্তের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে ২০১৪ সালে দখল করা পুরো ক্রিমিয়া, ডনবাসের প্রায় ৯০ শতাংশ, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং খারকিভ, সুমি, মাইকোলাইভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর পুতিন বলেন, শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে ২০২৪ সালে নির্ধারিত তার শর্তগুলো। এর মধ্যে রয়েছে ডনবাস, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য থেকে কিয়েভের সরে আসা। বৈঠকে তিনি ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টিও তোলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যৌথভাবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া ওই অঞ্চলে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আংশিকভাবে ইউক্রেনকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথাও আলোচনায় উঠে আসে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া, যাকে ক্রেমলিন ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
সূত্র- রয়টার্স
এমএস/