দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা ফের সংঘাতে রূপ নিয়েছে। দুই দেশই একে অন্যকে দোষারোপ করছে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের ৪ সৈন্য নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছে। রোববার রাতে হঠাৎ করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জুলাইয়ের পাঁচ দিনের সংঘর্ষের পর সীমান্তে যে নাজুক শান্তি ছিল, তা ভেঙে যায়।
জুলাইয়ের সেই সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছিল এবং তিন লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তখন যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে গত মাসে একটি ল্যান্ডমাইনে সৈন্য গুরুতর আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন স্থগিত করে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, কম্বোডিয়া আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেনি, তাই লড়াই চলবে। তার ভাষায়, ‘যা করার দরকার, আমরা তাই করব।’ থাই সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়া মঙ্গলবার থাই অবস্থানে কামান, রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার সেনেট সভাপতি হুন সেন দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী আগের দিন গুলি চালানো থেকে বিরত ছিল; তবে রাতে থাই আক্রমণের জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, থাই বাহিনী এগোতে থাকায় ‘প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে শত্রুপক্ষকে দুর্বল করা ছাড়া উপায় নেই’। তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়া শান্তি চায়, কিন্তু নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে।’
দুই দেশই প্রথম গুলি চালানোর অভিযোগ একে অন্যের ওপর চাপাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলেছে।
থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, ট্রাট উপকূলীয় অঞ্চলে কম্বোডিয়ার বাহিনী অবস্থান শক্ত করছে, স্নাইপার মোতায়েন করছে এবং বাঙ্কার খুঁড়ছে—যা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘গুরুতর হুমকি’। তাই তাদের হটিয়ে দেওয়ার অভিযান চলছে।
থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও বলেন, কম্বোডিয়া ‘শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়’। তার দাবি, ‘কথায় এক, মাঠে আরেক।’
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, তারা এক ঘণ্টার নোটিশেই সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে উদ্যোগ নিতে চায় না; উভয় পক্ষের সমঝোতাই জরুরি।
সংঘাত বৃদ্ধির কারণে দুপারের সীমান্তজুড়ে ব্যাপক মানুষস্থানান্তর হয়েছে। থাইল্যান্ড বলছে, তাদের দিক থেকে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তাদের দেশে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সীমান্তের চারটি প্রদেশে থাই সেনাবাহিনী প্রায় ৫০০ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে।
সুরিন শহরের একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপক্ষই গুলিবিনিময় থামানোর কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি ছিল অত্যন্ত নাজুক। তখন ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য শুল্কের হুমকি দিয়েছিল—যা দুই দেশকে ক্ষণিকের জন্য যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করেছিল। তাই এ যুদ্ধবিরতি ‘জোর করে চাপিয়ে দেওয়া’ ছিল বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নতুন সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ বা বাহ্যিক চাপ গ্রহণযোগ্য নয়; কম্বোডিয়াকেই প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করতে হবে।
দুই দেশের মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। মাঝে মাঝেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের এক রায়ে প্রেহ ভিহিয়ার মন্দির এলাকার একটি অংশ কম্বোডিয়ার বলে রায় দেওয়া হলেও থাইল্যান্ড আদালতের এখতিয়ারই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/