দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে চালু হওয়া এই আইন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ শীর্ষ ১০টি প্ল্যাটফর্ম যদি অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে কোনো ব্যবহারকারীকে সেবা দেয়, তবে তাদের ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মীরা আইনটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সরকার বলছে, শিশুদের ‘শিকারি অ্যালগরিদম’ থেকে রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ‘অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মোটেও সামাজিক নয়। বরং এটি হয় বুলিদের অস্ত্র, উদ্বেগের উৎস, প্রতারকদের ফাঁদ কিংবা সবচেয়ে খারাপভাবে অনলাইন অপরাধীদের হাতিয়ার।’
সিডনি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালেই অস্ট্রেলিয়ান শিশু-কিশোরদের বহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের নিচের কোনো ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা সক্রিয় রাখতে পারবে না। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক ও টুইচ এবং ম্যাসেজিং বোর্ড থ্রেডস ও এক্স-ও নিষিদ্ধ তালিকায় আছে।
তবে রোব্লক্স, পিন্টারেস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ আপাতত ছাড় পেয়েছে। সরকার বলেছে, তালিকা পর্যালোচনার কাজ চলমান।
ইউটিউবসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আইনটিকে সমালোচনা করে বলেছে, এতে শিশুরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ অন্ধকার দুনিয়ায় ঢুকে পড়তে পারে। আইনটির বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। রেডিট জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এরই মধ্যে সিডনিভিত্তিক ইন্টারনেট অধিকার সংগঠন ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকার স্বীকার করেছে, শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হবে এবং অনেক কিশোরই নানা উপায়ে এটি এড়ানোর চেষ্টা করবে। বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব একেবারেই প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর। কেউ চাইলে ছবি দিয়ে এআই-ভিত্তিক বয়স যাচাই করাতে পারে বা সরকারি আইডি আপলোড করে বয়স প্রমাণ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ সফল হয় কি না, তা এখন বিশ্বজুড়ে নিয়মকানুন তৈরির চেষ্টা করা নীতিনির্ধারকদের নজরে। মালয়েশিয়া আগামী বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনসহ ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস, রোমানিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ন্যূনতম বয়সসীমা নির্ধারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/