দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করায় বর্তমান যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি কমপক্ষে ৭৩৮ বার লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
হামাসের কর্মকর্তা হুসাম বদরান মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যাচ্ছে। দখলদারিত্ব চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে না।’ তিনি বলেন, হামাস প্রথম ধাপের শর্ত পূরণে ইসরায়েলের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর অনুরোধ করেছে।
এই যুদ্ধবিরতি বন্দিবিনিময় ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের আংশিক প্রত্যাহারের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। কিন্তু পরবর্তী ধাপ—গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীর সম্ভাব্য মোতায়েন এবং ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মতো বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭৭ জন নিহত এবং ৯৮৭ জন আহত হয়েছে।
আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাধা রয়ে গেছে
এক মার্কিন কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় এখনো সমাধান হয়নি। তিনি জানান, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতি–রক্ষা বাহিনী মোতায়েন হতে পারে। কোন কোন দেশ এই বাহিনীতে যোগ দেবে, কীভাবে এটি পরিচালিত হবে—এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলকে গাজা পুরোপুরি ছাড়তে হবে এবং হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ থেকে একটি পুলিশ বাহিনী গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশে যেসব বাধা আছে, সেগুলো দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও জানান কর্মকর্তাটি।
এদিকে জাতিসংঘ ইসরায়েলি জেনারেল ইয়াল জামিরের এক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি দাবি করেছিলেন, গাজার ভেতরে ইসরায়েলের দখল করা ‘হলুদ রেখা’ই নাকি নতুন সীমান্ত। গাজার ৫৮ শতাংশ এলাকায় এখনো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী ইসরায়েলের পুরোপুরি প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
ইসরায়েলের নতুন হামলা
খান ইউনুসের যে সব এলাকায় এখনো ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আছে, সেখানে নতুন করে বিমান ও আর্টিলারি হামলা চালানো হয়েছে। হতাহতের কোনো তথ্য মেলেনি। উত্তর গাজায় বেইত লাহিয়ায় ঘরবাড়ি ধ্বংসের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজা প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধবিরতির মানবিক শর্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৭০ হাজার ৩৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের হিসেবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং দুই শতাধিককে আটক করা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/