দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বিদেশি সহযোগীরা ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তার দেশ আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমালোচনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইতালি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করছি তারা যেন নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।’
ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউক্রেন সরকার যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন করছে না। জেলেনস্কি বলেন, তার লক্ষ্য ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা নয়; মূল উদ্বেগ ভোটারদের নিরাপত্তা। ‘মিসাইল হামলার মধ্যেও কীভাবে ভোট হবে? মানুষ ভোট দেবে কীভাবে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি। সংসদকে ইতোমধ্যে সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের আইনি প্রস্তাব প্রস্তুত করতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, নির্বাচন ইউক্রেনের জনগণের বিষয়, অন্য কোনো দেশের নয়। ‘আমরা প্রস্তুত, কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
যুদ্ধ শেষের প্রস্তাব হালনাগাদ
প্রায় চার বছরের যুদ্ধ বন্ধে গত কয়েক দিনে ইউক্রেন ও মিত্রদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রকে হালনাগাদ শান্তি-প্রস্তাব তুলে দেবে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তাবটি আরও পরিমার্জিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জেলেনস্কি নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব পড়েননি। জেলেনস্কি জানান, তিনি একাধিক সংস্করণ পড়েছেন এবং নিজের দল নিয়ে তা সংশোধন করছেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেতাস্তরের বৈঠক হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, তিনটি আলাদা নথি নিয়ে আলোচনা চলছে—একটি শান্তি-প্রস্তাবের ২০ দফা কাঠামো, আরেকটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে এবং তৃতীয়টি যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে।
ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র জোট নিয়ে উদ্বেগ
ট্রাম্পের ইউরোপবিরোধী অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্ট হওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার পোপ লিও বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ জোটকে দুর্বল করতে পারে।
পোপ বলেন, ইউরোপকে ছাড়া শান্তি আলোচনায় এগোনো বাস্তবসম্মত নয়, কারণ যুদ্ধ ইউরোপেই চলছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় ইউরোপের ভূমিকা অপরিহার্য।
ক্রিমিয়া পুনর্দখলের সামর্থ্য নেই: জেলেনস্কি
এদিকে জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, বর্তমানে ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া ফেরত নেওয়ার মতো সামরিক শক্তি নেই। তিনি বলেন, ‘আমি সত্য বলছি—এখন আমাদের সেই শক্তি নেই, যথেষ্ট সহায়তাও নেই।’ ২০১৯ সালে প্যারিস বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তখন তিনি ক্রিমিয়া ও ন্যাটো সদস্যপদ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছিলেন, তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/