দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েল আবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, সোমবার রাতে একাধিক দফায় এসব হামলায় জেবা, সাফি পর্বত, জেফতা ভ্যালি এবং আজ্জা–রুমিন আর্চির মধ্যবর্তী এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে রাদওয়ান ফোর্সের বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ কয়েকটি ভবন ও রকেট উৎক্ষেপণস্থল টার্গেট করেছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও চাপে পড়েছে। গত কয়েক দিন আগে ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটিতে বেসামরিক প্রতিনিধি পাঠায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দাবির অংশ ছিল।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার বলেন, দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে যাতে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালে যে যুদ্ধবিরতি হয়, তা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর বছরের বেশি সময়ের সংঘাত থামায়। তবু প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত সপ্তাহেই ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাংশে বোমা হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইসম আলি তাবতাবাইকে হত্যা করে।
হিজবুল্লাহ এখনো এর প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরায়েলের অভিযোগ, লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। লেবানন সরকার তা অস্বীকার করে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কাঠামোকে আরও সক্রিয় করতে হবে—হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে কি না, তা যাচাই করতে এবং লেবানন সেনাবাহিনীর অভিযান মূল্যায়নের জন্য।
তিনি জানান, প্রয়োজন হলে মার্কিন ও ফরাসি সেনাদেরও এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ভূমিকা নিতে লেবানন রাজি।
নিত্যদিনের ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—দখলদার বাহিনী আরও বৃহত্তর অভিযান শুরু করতে পারে।
হিজবুল্লাহ বলছে, ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে হামলা চালানো এবং দক্ষিণে দখল করা পাঁচটি পয়েন্ট থেকে সরে না গেলে তারা অস্ত্র ছাড়বে না।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/